ইইউ অঞ্চলে ব্রিটিশ খাদ্য রফতানি কমেছে এক-তৃতীয়াংশ

গত পাঁচ বছরে যুক্তরাজ্য থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) খাদ্য ও পানীয় রফতানি কমেছে এক-তৃতীয়াংশের বেশি।

গত পাঁচ বছরে যুক্তরাজ্য থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) খাদ্য ও পানীয় রফতানি কমেছে এক-তৃতীয়াংশের বেশি। ব্রেক্সিট-পরবর্তী সময়ে নতুন বাণিজ্যনীতি ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে এ ব্লকের দেশগুলোর সঙ্গে যুক্তরাজ্যের বাণিজ্য কঠিন ও ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে। এরই প্রভাব পড়েছে রফতানিতে। খবর দ্য গার্ডিয়ান।

যুক্তরাজ্যের ফুড অ্যান্ড ড্রিংক ফেডারেশন (এফডিএফ) জানিয়েছে, ২০২৪ সালে দেশটি ইইউ অঞ্চলে মোট ৬৩৭ কোটি কিলোগ্রাম খাদ্যপণ্য রফতানি করেছে, যা ২০১৯ সালের তুলনায় ৩৪ শতাংশ কম। ব্রিটিশ পানীয়, চকোলেট ও পনির ইউরোপীয় ক্রেতাদের মধ্যে জনপ্রিয় হওয়া সত্ত্বেও সামগ্রিক খাদ্য রফতানি কমেছে।

যুক্তরাজ্য ২০২০ সালের জানুয়ারিতে ইইউ ত্যাগ করার পর রফতানিতে কিছুটা পতন দেখা যায়। এর উল্লেখযোগ্য কারণ কভিড-১৯ মহামারী ও ইউক্রেন যুদ্ধ। তবে এফডিএফের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, নেদারল্যান্ডস, জার্মানি ও ইতালির মতো ইউরোপীয় দেশে ২০২০ সালের পর রফতানি বেড়েছে। অথচ যুক্তরাজ্যের রফতানি কমেছে।

২০২৩ সালে যুক্তরাজ্যে খাদ্য ও পানীয় আমদানি সর্বোচ্চ মাত্রায় পৌঁছায়। একই সময় কৃষকরা নগদ প্রবাহের সংকট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। করনীতি পরিবর্তন, খারাপ আবহাওয়া ও উৎপাদন ব্যয়ের চাপ দেশটির খাদ্য উৎপাদনকে বাধাগ্রস্ত করছে।

২০২৪ সালে যুক্তরাজ্য ৬ হাজার ৩১০ কোটি পাউন্ড মূল্যের খাদ্য ও পানীয় আমদানি করে। ইইউ থেকে আমদানি আগের বছরের তুলনায় ৩ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়েছে। অন্যদিকে ইউরোপীয় নয় এমন দেশ থেকে আমদানি বেড়েছে ৭ দশমিক ৪ শতাংশ।

খাদ্য ও পানীয় বাণিজ্যে ইইউ এখনো যুক্তরাজ্যের সবচেয়ে বড় অংশীদার। ২০২৪ সালে যুক্তরাজ্যের মোট খাদ্য ও পানীয় রফতানির ৬১ দশমিক ৮ শতাংশ এবং আমদানির ৭৫ দশমিক ৬ শতাংশের গন্তব্য ও উৎস ছিল ইইউ, যার মোট মূল্য প্রায় ৪ হাজার ৫০০ কোটি পাউন্ড।

এফডিএফের ইন্ডাস্ট্রি গ্রোথ অ্যান্ড সাসটেইনেবিলিটি বিভাগের পরিচালক বলবিন্দর ধুত বলেন, ‘সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যের ১২ হাজার ৫০০ খাদ্য ও পানীয় ব্যবসা ইউরোপের সঙ্গে বাণিজ্যে প্রশাসনিক জটিলতার কারণে কঠিন পরিস্থিতির সম্মুখীন হচ্ছে। সরকারের উচিত ইইউ ও শিল্প খাতের সঙ্গে কাজ করা, যাতে বাণিজ্য বাধাগুলো যতটা সম্ভব কমানো যায়।’

আরও